Pay with:

লকডাউনে চলছে – ইশিখনের সর্বকালের সেরা অফার! ৪৩০/- থেকে ১৩৫০/- টাকার প্রতিটি কোর্সের ডিভিডি ডাউনলোড এখন মাত্র ২১৫/- থেকে ৬৭৫ টাকা। বিস্তারিত

বাঁধ

জহির রায়হান

লেখক পরিচিতি
পাঠ পরিচিতি
অনুশীলনী কর্ম

আর কিছু নয়, গফরগাঁ থাইকা পীর সাহেবেরে নিয়া আস তোমরা। অনেক ভেবে চিন্তে বললেন রহিম সর্দার। তাই করেন হুজুর, তাই করেন! একবাক্যে সায় দিল চাষীরা। গফরগাঁ থেকে জবরদস্ত পীর মনোয়ার হাজীকেই নিয়ে আসবে ওরা। দেশজোড়া নাম মনোয়ার হাজীর। অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি তিনি। মুমর্ষ রোগীকেও এক ফুঁয়ে ভালো করেছেন এমন দৃষ্টান্তও আছে। সেবার করিমগঞ্জে যখন ওলাবিবি এসে ঘরকে ঘর উজার করে দিচ্ছিল তখন এই মনোয়ার হাজীই রক্ষা করেছিলেন গাঁটাকে। সাধ্য কি ওলাবিবির মনোয়ার হাজীর ফুঁয়ের সামনে দাঁড়ায়। দিন দুয়েকের মধ্যে তল্লিতল্লা গুটিয়ে পালিয়ে গেল ওলাবিবি, দু’দশ গাঁ ছেড়ে। এমন ক্ষমতা রাখেন মনোয়ার হাজী। গাঁয়ের লোক খুশি হয়ে অজসধ টাকা পয়সা আর অজসধ জিনিসপত্র ভেট দিয়েছিল তাঁকে। কেউ দিয়েছিল বাগানের শাক-সব্জী। কেউ দিয়েছিল পুকুরের মাছ। কেউ মোরগ হাঁস। আবার কেউ দিয়েছিল নগদ টাকা। দুধের গরুও নাকি কয়েকটা পেয়েছিলেন তিনি। এত ভেট পেয়েছিলেন যে, সেগুলো বাড়ী নিতে নাকি তিন তিনটি গরুর গাড়ী লেগেছিল তাঁর। সেই সৌভাগ্যবান পীর মনোয়ার হাজী! তাঁকেই আনবে বলে ঠিক করল গাঁয়ের মাতব্বরেরা, চাষী আর ক্ষেত মজুIIা।ররƬললে, চাঁদা দিমু? কিসের লাইগা দিমু? ওই লোকডার পিছে ব্যয় করবার লাইগা? মতমিাষ্টারের কথা দাঁতে জিভ কাটলো জমির মুন্সি। তওবা, তওবা, কহেন কমিাষ্টার সাব। খোদাভক্ত পীর, আল্লার ওলী মানুষ। দশ গাঁয়ে যারে মানে, তার নামে এত বড় কুৎসা! ভালা কাজ করলা না মাষ্টার, ভালা কাজ করলা না। ঘন ঘন মাথা নাড়লেন জমির ব্যাপারী। পীরের বদ দোয়ায় ছাই অইয়া যাইবা! কথা শুনে সশব্দে হেসে উঠল মতমিাষ্টার। কি যে কও চাচা, তোমাগো কথা শুনলে হাসি পায়। হাসি পাইবো না, লেখাপড়া শিখা তো এহন বড় মানুষ অইয়া গেছ। মুখ ভেংচিয়ে বললেন জমির ব্যাপারী। চাঁদা দিলে দিবা না দিলে নাই, এত বাহাত্তরী কথা ক্যান? কিন্তু, বাহাত্তরী কথা আরো একজনের কাছ থেকে শুনতে হল তাদের। শোনালো দৌলত কাজীর মেজ ছেলে রশিদ। শহরে থেকে কলেজে পড়ে। ছুটিতে বাড়ীতে এসেছে বেড়াতে। চাঁদা তোলার ইতিবৃত্ত শুনে সে বলল, পাগল আর কি, পীর আইনা বন্যা রুখবো! এ একটা কথা অইলো? কথা নয় হারামজাদা! জমির মুন্সি কোন জবাব দেবার আগেই গর্জি উঠলেন দৌলত কাজী নিজে। আল্লাহর ওলি, পীর দরবেশ; ইচ্ছা করলে সব কিছু করতে পারে। সব কিছু করতে পারে তাঁরা। এই বলে ন- নবী আর মহাপ−াবনের ইতিকথাটা ছেলেকে শুনিয়ে দিলেন তিনি।
১ক্ত০ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য
খবরটা রহিম সর্দারের কানে যেতে দেরী হল না। দু-দশ গাঁয়ের মাতব্বর রহিম নর্দার। পঞ্চাশ বিঘে খাস আবাদী জমির মালিক। একবার রাখলে, সে রাগ সহজে পড়ে না তাঁর। জমির মুন্সির কাছ থেকে কথাটা শুনে রাগে থরথর করে কেঁপে উঠলেন তিনি, এহৃা! খোদার পীরের ঠাট্টা তামাসা। আচ্ছা, মতমিাষ্টারের মাষ্টারি আমি দেইখা নিমু। দেইখা নিমু মইত্যা এ গেরামে কেমন কইরা থাহে। অত্যন্ত রেখে গেলেও একেবারে হুঁশ হারাননি রহিম সর্দার। কাজীর ছেলে রশিদের নামটা অতি সন্তর্পণে এড়িয়ে গেলেন তিনি। কাজী বাড়ি কুটু¤ ^ বাড়ি, বেয়াই বেয়াই সম্র্পূক, তাই।
পীর সাহেবের নরানী সুরত দেখে গাঁয়ে ছেলে বুড়োরা অবাক হল। আহা! এমন যার সুরত, গুণতার কত বড়, কে জানে! ভক্তি সহকারে পীর সাহেবের পায়ের ধলো নিল সবাই। গরীব মানুষ হুজুর! মইরা গেলাম, বাঁচান। হুজুরের পা জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠলেন জমির ব্যাপারেী।
জমির ব্যাপারী বোকা নন। বোঝেন সব। খোদার মন টলাতে হলে আগে পর সাহেবের মন গলাতে হবে। পীর সাহেবের মন গললে এ হতভাগাদের জনে্য খোদার কাছে প্রার্থনা করবেন তিনি। তারপরেই না খোদা মুখ তুলে তাকাবেন ওদের দিকে।
পীর সাহেব এসে পৌঁছলেন সকালে। আর ঘটা করে বৃষ্টি নামল বিকেলে। বৃষ্টি, বৃষ্টি আর বৃষ্টি। সারাটা বিকেল বৃষ্টি হল। সারা রাত চললো তার একটানা ঝপঝপ ঝনঝন শব্দ। সকালেও তার বিরাম নেই। প্রতি বছর এ সময়ে শ্রাবণ মাসের ‘ডাত্তর’। কেউ কেউ বলে বুড়ো বুড়ির ‘ডাত্তর’। এই ডাত্তরের আয়ুষ্কাল পনের দিন। এই পনের দিন একটানা ঝর বৃষ্টি হবে। জোরে বাতাস বইবে। বাতাস যদি বেশি থাকে আর অমাবস্যা কি পুর্ণিমার জোয়ারের যদি নাগাল পায় তাহলে সর্বনাশ! নির্ঘাত বন্যা! ‘খোদা, রক্ষা কর! রক্ষা কর খোদা! রহম কর এই অধমগুলোর ওপর! কান্নায় ভেঙে পড়লেন জমির ব্যাপারী। মনে মনে মানত করলেন। যদি ফসল নষ্ট না হয় তাহলে হালের গরু জোরা পীর সাহেবকে ভেট দেবেন তিনি। গম্ভীর পীর সাহেব ঢুলে ঢুলে তছবি পড়েন আর খোদার মহিমা বর্ণনা করেন সবার কাছে। খোদার মহিমা বর্ণনা শেষ হলে পীর সাহেবের মহিমা বর্ণনা প্রসঙ্গে অসংখ্য আজগুবি ঘটনার অবতারণা করেন তাঁর সাকরেদরা। মনে আশা জাগে চাষীদের। আনন্দে চক্চক্ করে ওঠে কোটরে ঢোকা চোখগুলো। ভীড়ের মাঝ থেকে গনমিোল্লা ফিসফিসিয়ে বললেন, কই নাই মনার পো? এই পীর যেই সেই পীর নয় খোদার খাস পীর! যারা শুনেছে তারা মাথা নেড়ে সায় দিল, হহৃা, কথাটা সতি্য। আর যারা শোনেনি তারাও সেই মুহুর্তে বিশ্বাস করলো কথাটা। পীর সাহেব সব পারেন তিনি। কিন্তু, থামাচ্ছেন না প্রয়োজনবোধে থামাবেন তাই। কিন্তু, মতমিাষ্টার বিশ্বাস করলো না কথাটা। হেসে উড়িয়ে দিল। বললো, ঝড় থামাবে ওই বুড়োটি? মন্তর পড়ে ঝড় থামাবে? হহৃা, থামাবে। আলবত থামাবে। আকাশভেদী হুংকার ছাড়লেন গনমিোল্লা। চোখ রাঙিয়ে ফতোয়া দিলেন। এই নাফরমান বেদীনগুলো গাঁয়ে আছে দেইখাই তো গাঁয়ের এই দুরবস্থা। হহৃা, ঠিক কইছ মোল্লার পো। তাঁকে সমর্থন করলেন বুড়ো তিনজী মিঞা। এই কাফেরগুলোর গাঁ থাইকা না তাড়াইলে গাঁয়ের শান্তি নাই। কিন্তু গাঁয়ের শান্তি রক্ষার চাইতে “ঢল’ রোখাটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রকৃতি উম্মাদ হয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ বাতাস বারবার সাব্রান করছে। ঢল হইবো ঢল। পানি ভরা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন তিনজী মিঞা। রক্ত দিয়ে বোনা সোনার ফসল
মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য ১ক্ত১
হায়রে ফসল! হঠাৎ পাগলের মত চিৎকার করে ওঠেন তিনি, খোদা! মসজিদে আজান পড়ছে। পীর সাহেব ডাকছেন সবাইকে। এস মিলাদ পড়তে এস। এস মঙ্গলের জন্য এস। টুপিটাকে মাথায় চড়িয়ে বৃষ্টির ভেতর ভিজে ভিজেই মসজিদের দিকে ছুট দিলেন জমির ব্যাপারী। যাবার সময় ঘরের বৌ-ঝিদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেলেন, এ রাত ঘুমাইবার রাত নয়। বুঝল? অজু কইরা বইসা খোদারে ডাক। অজুটা সেরে উঠে দাঁড়াতেই কার একটা হাত এসে পড়লো ছকু মুন্সির কাঁধের ওপর। জমির মুন্সির ছেলে ছকু মুন্সি। গাঁট্টাগোট্টা জোয়ান মানুষ। প্রথমটায় ভয়ে আঁতকে উঠে জিজ্ঞেস করলো, কে? ভয় নাই আমমিতমিাষ্টার। বিষয় কি? এ রাত্তির বেলা? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে ছকু। মতমিাষ্টার বললো, যাও কনহানে? যাই মসজিদে। ছকু জবাব দিল। ক্যান তোমরা যাইবা না? না। স্বল্প থেমে মতমিাষ্টার বললো। এক কাজ কর ছকু। মসজিদে যাওয়া এহন রাখ। ঘর থাইকা কোদাল নিয়া বাইর অইয়া আয়। যেটি জলদি কর। কোদাল দিয়া কি অইবো? রীতিমত ঘাবড়ে গেল ছকু মুন্সি যেটি ছকা। কোদাল আন। পেছন থেকে বললো মন্তু শেখ। এতক্ষণে পুরো দলটার দিকে চোখ পড়লো ছকু মুন্সির। একজন দুজন নয়, অনেক। অন্তত:জন পঞ্চাশেক হবে। সবার হাতে কোদাল আর ঝুড়ি। মতমিাষ্টার এত লোক জোটাল কেমন করে? কাড়ী বাড়ীর পড়-য়া ছেলে রশিদকে দলের মধ্যে দেখে আরো একটু অবাক হল ছকু। ব্যাপারটা অনেক দর অঁচ করতে পারল সে। গতকাল এ নিয়েই কাজী পাড়ায় বুড়ো কাজীর সঙ্গে তর্ক করছিল মতমিাষ্টার। গত কয়েক বছর কি খোদারে ডাকেন নাই আপনারা? হহৃা, ডাকছিলেন। কিন্তু ফল কি হয়েছে? ফলে কি বাঁচছে আপনাগো? বাঁচে নাই। তাই কইতে আছলামকেবল বইসা বইসা খোদারে ডাকলে চলবো না। এ কয়টা গাঁয়ে মানুষ তো আমরা কম নই। সবাই মিলে বাঁধটারে যদি পাহারা দিই, সাধ্য কি বাঁধ ভাঙে? মতমিাষ্টারের কথা শুনে দাঁদ খিঁচিয়ে তেড়ে এসেছিলেন বুড়ো কাজী। অশ্যাব্য গালি-গালাজ করেছিলেন তাকে। সে কাল বিকেলের কথা। মসজিদে আজান হচ্ছে। পীর সাহেব ডাকছেন সবাইকে, এসে মিলাদ পড়তে এস। এস মঙ্গলের জন্য এস। সবার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিল ছকু। তারপর টুপিটাকে মাথায় চড়িয়ে মসজিদের দিকে পা বাড়ালো সে। খপ করে একখানা হাত চেপে ধরলে রশি, ছকু। এই ছকা। ক্ষেপে উঠলো পন্ডিত বাড়ীর চাঁদু। অগত্যা, কোদাল আর ঝুড়ি নিয়ে বেরিয়ে এল ছকু মুন্সি। মাইল খঅনেক হাঁটতে হবে ওদের। তারপর বাঁধ। নবীন কবিরাজের পুকুর পাড়ে এসে পৌঁছতেই জোরে বিদুধৎ চমকে উঠে প্রচন্ড শব্দে বাজ পড়ল একটা। ভরে আঁতক উঠে থমকে দাঁড়াল ছকু। খোদা সাব্রান করছে তাদের। খবরদার যাইও না। যাইও না মাষ্টার। থামো, থামো! হঠাৎ চীৎকার করে উঠলো ছকু মুন্সি। খোদা নারাজ হইবো, মসজিদে চল সবাই। ইস, চুপ কর ছকু। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপছে মতমিাষ্টার। এখন কথা কইবার সময় না। জলদি চল।
১ক্ত২ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য
আবার চলতে শুরু করল ওরা। দরে মসজিদ থেকে দরুদের শব্দে ভেসে আসছে। পীর সাহেবের সঙ্গে গলা মিলিয়ে দরুদ পড়ছে তিনজী মিঞা।, জমির ব্যাপারী, রহিম সর্দার ও আরো কয়েকশ জোয়ান জোয়ান মানুষ। অসহায়ের মত ঊর্ধ্বে হাত তুে ল চিৎকার করছে তারা। হে আসমান জমিনের মালিক! হে রহমানের রহিম! তুমিই সব! তুমি রক্ষা কর আমাদের! ওদিক মরিয়া হয়ে কোদাল চালাচ্ছে মতমিাষ্টারের দল। এ বাঁধ ভাঙতে দেবে না তারা। কিছুতেই না। তাদের সোনার ফসল ডুবতে দেবে না তারা কিছুতেই। কখনই না। ঝঞ্জা-বিক্ষুব্ধ আকশে বিদক্ষৎ চমকিয়ে বাজ পড়ছে। সোঁ সোঁ শব্দে বাতাস বইছে। খরে ̄ধাতা নদী ফুলে ফেঁপে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। অমাবস্যার জোয়ার। নির্ঘাত বাঁধ ভেঙে পড়বে। হায় খোদা! ঘরের বৌ-ঝিয়েরা করুণ আর্তনাদ করে ফরিয়াদ জানায় আকাশের দিকে চেয়ে। দুনিয়াতে ইমান বলে কিছু নেই তাই তা খোদা রাগ করেছেন। মানুষ গরু সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি। ধ্বংস করে দেবেন এই পৃথিবীটাকে, পাপে ভরা এই পৃথিবী। দুরু দুরু বুক কাঁপছে তিনজী মিঞার। চোখের জলে ভাসছেন জমির ব্যাপারী। আর ঢুলে ঢুলে তছবি পড়ছেন। হায়রে ফসল! সোনার ফসল! এ ফসল নষ্ট হতে পারে না। টর্চ হাতে ছুটোছুটি করছে মতমিাষ্টার। কোদাল চালাও! আরো জোরে! বাঁধে ফাটল ধরেছে। এ ফাটল বন্ধ করতেই হবে। অস্বাভাবিক দধুতগতিতে কোদাল চালাচ্ছে ওরা। মন্তু শেখ চিৎকার করে বললে, আলির নাম নাও ভাইয়া, আলির নাম নাও। আলির নামে কাম হইবো শেখের পো? বললে বুড়ো কেরামত। তারছে একডা গান গাও। গায়ে জোস আইবো। মন্তু শেখ গান ধরলো। গানের শব্দ ছাপিয়ে হঠাৎ বাজ পড়লো একটা কাছে কোথায়। কোদাল চালাতে চালাতে মতমিাষ্টারকে আর তার চৌদ্দ পুরুষকে মনে মনে গাল দিতে লাগলো ছকু মুন্সি, খোদার সঙ্গে লাঠালাঠি। হা-খোদা, এই কি জমানা আইছে। খোদা, এই অধমের কোন দোষ নাই। এই অধমেরে মাপ কইরা দিও। ঝুড়মিাথায় বিড়বিড় করে উঠলো পন্ডিত বাড়ীর চাঁদু, হাত-পা গুটাইয়া মসজিদে বইসা বইসা ঢল রুখবো না আমার মাথা রুখবো। তারপর হঠাৎ এক সময়ে মতমিাষ্টারের গলার শব্দ শোনা গেল, আর ভয় নাই চাঁদু। আর ভয় নাই। এবার তোরা একটু জিরাইয়া নে! এতক্ষণে হাসি ফুটলো সবার মুখে। শ্রান্তির নি:শ্বাস ছেড়ে বাঁধের ওপর এলিয়ে পড়লো অবশ দেহগুলো। পঞ্চাশটি ক্লান্ত মানুষ। সর্য তখন পুব আকাশে উঁকমিারছে। আধ আলো অন্ধকার আকাশ বেয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। মৃদুমন্দ বাতাসের তালে তালে নাচছে সোনালী ফসল। মসজিদ থেকে বেরিয়ে হঠাৎ সেদিকে চোখ পড়তে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠলো জমির বেপারী। ডোবেনি। ডুবতে দেননি পীর সাহেব। খুশিতে চক্চক্ করে উঠলো জমির মুন্সির চোখ দুটো। দৌড়ে এসে পীর সাহেবের পায়ে চুমো খেলেন গনমিোল্লা। ডোবেনি ডোবেনি। ফসল তাদের ডোবেনি। ডুবতে দেননি পীর সাহেব।
মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য ১ক্তক্ত
এক মুহর্তে যেন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে সমস্ত গাঁ-টা। ছেলে বুড়ো সবাই হুমড়ি খেয়ে ধেয়ে আসছে পীর সাহেবের পায়ে চুমো খাবার জনে্য। ঘুম চোখে তখনও ঢুলছেন পীর সাহেব। স্বল্প হেসে বললেন, খোদার কুদরতের শান কে বলতে পারে। সাগরেদরা সমস্বরে বলে উঠলো, সারারাত না ঘুমাইয়া খোদারে ডাকছেন আমাগো পীর সাব। বাঁধ ভাঙ্গে সাধ্য কি? পীর সাহেব তখনো হাসছেন। স্বল্প পরিমিত হাসি আপেলের উ: রক্তিমাভার মত ফেটে ছড়িয়ে পড়ছে মুখের সর্বত্র। শব্দার্থ ও

টীকা : ওলাবিবি – প্রাচীন সমাজে পজ্য কলেরা রোগের দেবী, তল্পিতল্পা – বিছানাপত্র বা অন্যান্য জিনিসপত্রের বোঁচকা, ভেংচি – উপহানসচক বিকৃত মুখভঙ্গি, বাহাত্তরি কথা – বাহাত্তর বছর বয়সস্ক শক্তিহীন অকেজো বৃদ্ধের সংলাপ, বাজে কথা ; সাকরেদ – শাগরেদ, চেলা, সহকারী, নাফরমান – অবাধ্য, আদেশ অমান্যকারী, কাফের – সত্য প্রত্যাখ্যানকারী, ইসলাম-বিরোধী লোক।

   
   

Certificate Code

সবশেষ ৫টি রিভিউ

top
© eShikhon.com 2015-2020. All Right Reserved