Pay with:

লকডাউনে চলছে – ইশিখনের সর্বকালের সেরা অফার! ৪৩০/- থেকে ১৩৫০/- টাকার প্রতিটি কোর্সের ডিভিডি ডাউনলোড এখন মাত্র ২১৫/- থেকে ৬৭৫ টাকা। বিস্তারিত

পয়লা বৈশাখ

কবীর চৌধুরী

লেখক পরিচিতি
শব্দার্থ ও টিকা
পাঠ পরিচিতি
অনুশীলনী কর্ম

্রায় সব দেশে, সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে, সব সংস্কৃতিতেই নববর্ষ উদ্্যাপনের প্রথা প্রচলিত আছে। অবশ্য উদ্্যাপনের রীতি-প্রকৃতি ও পদ্ধতি-প্রকরণের মধ্যে তারতম্য আছে, তবু সর্বক্ষেত্রেই একটমিৌলিক ঐক্য আমাদের চোখে পড়ে। তা হল নবজন্ম বা পুনর্জন্ম বা পুনরুজ্জীবনের ধারণা, পুরানো জীর্ণ এক অিস্তত্বকে বিদায় দিয়ে সতেজ সজীব নবীন এক জীবনের মধ্যে প্রবেশ করার আনন্দানুভতি। টেনিসন যখন বলেন :
রিং আউট দি ওল্ড, রিং ইন দি নিউ, রিং, হ্যাপি বেলস্্ এ্যাক্ষস দি স্নো : দি ইয়ার ইজ গোয়িং, লেট হিম গো, রিং আউট দি ফল্্স, রিং ইন দি টধু ॥ তখন তার মধ্যে আমরা সেটা লক্ষ করি। কবি রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন :
এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ। তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দর হয়ে যাক ॥ যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদরে মিলাক ॥ মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নি ̄œানে শুচি হোক ধরা। রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি, আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ। মায়ার কুজ্্ঝটিজাল যাক দরে যাক ॥ তখন তার মধ্যে আমরা সেটা লক্ষ করি। একজন বলেছেন, পয়লা জানুয়ারিকে উদ্দেশ্য করে, আরেকজন লিখেছেন পয়লা বৈশাখকে মনের মধ্যে রেখে, কিন্তু কেন্দ্রীয় ভাবটি উভয়ক্ষেত্রেই এক।
মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য ১০৫
পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাঙালির এক অনন্য উৎসব, তার অন্যতম জাতীয় উৎসব। এরƐতিহ্য সুপ্রߠƚীন ও গৌর͠Ʈন্ডিত। আবশ্য কালেরƯাত্রাপথ ধরে এর উদ্্যাপন রীতিতে নানা পালাবদল ঘটেছে, বিভিন্ন সময়ে তা বিভিন্ন মাত্রিকতা অর্জন করেছে। সুদর অতীতে এর সঙ্গে কৃষি সমাজের যোগসূত্র ছিলো অবিচ্ছেদ্য। প্রাচীন কৃষি সমাজের শীতকালীন নির্জীবতার পর নবজীবনের আবির্ভাবের ধারণার সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদ্্যাপনের এটি সম্র্পূকিত ছিলো, একথা ভাবা অসঙ্গত নয়। এক সময় গ্রাম-নগর নির্বিশেষে বাংলা সব মানুষ, সে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ কি খ্রিস্টান হোক, বাংলা নববর্ষের উৎসবে সোৎসাহে যোগ দিতো। পর স্পরের বাড়িতে যাওয়া-আসা, শুভেচ্ছা, বিনিময়, খাওয়া-দাওয়া, নানা রকম খেলাধুলা ও আনন্দ উৎসব, মেলা ও প্রদর্শনী মিলে সারা বছরের অন্যান্য দিনগুলি থেকে সম্র্পূণ স্বতন্ত্র হয়ে এই দিনটি গৌরবমন্ডিত হয়ে উঠতো। সাড়ে তিনশ’ বছরেরও বেশি আগে বিখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল ফজল তাঁর ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে বাংলা নববর্ষকে এদেশের জনগণের নওরোজ বলে উল্লেখ করেছেন। আবশ্য তারও বহু শতবর্ষ আগে থেকে বাংলা মানুষ নানাভাবে এই দিনটি পালন করে আসছে। কিন্তু পালা বদলের কথা বলছিলাম। উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বিধটিশ ঔপনিবেশিক রাজত্বের দিনগুলোর এক র্পূযায়ে বাংলা নববর্ষ পালনের মধ্যে এদেশের শোষিত ও পরশাসিত জনগণের চিত্তে স্বাদেশিকতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছিল, যদিও সে সময়কার মুসলিম মানসে এর কোনো গভীর বা প্রত্যক্ষ অভিঘাত লক্ষ করা যায় না। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা নববর্ষ উদ্্যাপনকে অবলম্বন করে তার জাতীয়তাবাদী অনুষঙ্গের সঙ্গে যে সামধাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা যুক্ত হয়েছিলো, একটু লক্ষ্য করলেই তা বোঝা যায়। ১৯৪৭-এ উপমহাদেশ বিভক্তির ফলে পাকিস্তান সৃষ্টির পর সেদিনের র্পূব পাকিস্তানে বাংলা নববর্ষ উদ্্যাপন নিয়ে তৎকালীন নয়া উপনিবেশবাদী, ক্ষীণদৃষ্টি, ধর্মান্ধ, পাকিস্তানি শাসকবর্গ যে মনোভাব প্রদর্শন করেন তা একইসঙ্গে কৌতুহলোদ্দীপক ও ন্যাক্কারজনক। তখন এ অঞ্চলের শিক্ষিত মানুষ ধর্ম ও সম্পধদায় নিরপেক্ষভাবে একটি প্রতিবাদী মনোভাব নিয়ে পরম উৎসাহ ভরে বাংলা নববর্ষ উদ্্যাপন করেছে। এর মধ্যে দিয়ে তারা তাদের বাঙালি জাতীয়বাদী চেতনাকে তুলে ধরেছে, তাদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় ঘোষণা করেছে, তাদের দীর্ঘদিনের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। আজ স্বাধীন বাংলাদেশেও এই দিনটি নানা কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ী মহলে হালখাতা ও মিঠাই বিতরণের অনুষ্ঠান তো আছেই। তার পাশাপাশি আছে নানা ধরনের ক্ষীড়া প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী ও মেলার আসর, সঙ্গীতানুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, বক্ত…তা-ভাষণ ইত্যাদি। তবে যে গ্রামবাংলা ছিলো পয়লা বৈশাখের আনন্দানুষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্র আজ অর্থনৈতিক কারণে শহরে, বিশেষভাবে রাজধানী ঢাকায়, পয়লা বৈশাখকে উপলক্ষ করে এখন যে চাঞ্চল্য ও আনন্দন্ডউৎসব দেখা যায় তা নিতান্তই মেকি একথা বলা যাবে না, কিন্তু তার মধ্যে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত নাগরিকের বুর্জোয়া বিলাস ও ফ্যাশানের একটি বড় অংশ কাজ করছে সেকথা মানতেই হবে। পয়লা বৈশাখকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা প্রয়োজন। বৃহত্তর জনজীবনের সঙ্গে, শ্রমজীবী মানুষের আন্তরসত্তার সঙ্গে এর রাখীবন্ধনকে আবার নতুন করে বাঁধতে হবে। সেই লক্ষে্য আমাদের আজ বাংলা নববর্ষের মধ্যে সচেতনভাবে নতুন মাত্রিকতা যোগ করতে হবে। বাংলা নববর্ষের উৎসব যে বিশেষভাবে ঐতিহ্যমন্ডিত, শ্রেণিগত অবস্থান নির্বিশেষে, সাধারণ মানুষের উৎসব, এর একান্ত ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র যে অত্যন্ত তাৎর্পূযময় আজ সেকথাটা আবার জোরের সঙ্গে বলা চাই। নিজেকে একবার একজন হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে ভেবে দেখুন, তাহলেই এর শভিনিস্টিক দিকটি বুঝতে পারবেন। অথচ এ অঞ্চলের ঐতিহ্য তো তা নয়। ইংরেজ সা¤ধাজ্যবাদী বেনিয়া শক্তির সামনে স্বাধীন বাঙলার সর্য ডুবে যাওয়ার র্পূব মুহর্তে সিরাজদ্দৌলা শেষ বারের মতো লড়াই করার জন্য ডাক দিয়েছিলেন হিন্দু-মুসলমান উভয়কে। আমাদের ঐতিহ্য তো মীর মদন ও মোহন লালের, তিতুমীর ও মঙ্গল পান্ডের, গোবিন্দ দেব ও মুনীর চৌধুরীর। তবে কেন এখন এর রকম ঘটছে? পাকিস্তানি আমলের ধর্মের নামে নৃশংসতার ইতিহাস ভুলে যাওয়া কি এতই সহজ?
১০৬ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব বাংলা নববর্ষ উদ্্যাপন আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাকে অপরাজেয় শক্তি ও মহিমায় র্পূণ কর, এক হোক আমাদের শুভ কামনা। জয় পয়লা বৈশাখ।

   
   

Certificate Code

সবশেষ ৫টি রিভিউ

top
© eShikhon.com 2015-2020. All Right Reserved