Pay with:

লকডাউনে চলছে – ইশিখনের সর্বকালের সেরা অফার! ৪৩০/- থেকে ১৩৫০/- টাকার প্রতিটি কোর্সের ডিভিডি ডাউনলোড এখন মাত্র ২১৫/- থেকে ৬৭৫ টাকা। বিস্তারিত

তথ্য প্রযুক্তি

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

লেখক পরিচিতি ও পাঠ পরিচিতি
অনুশীলনী কর্ম

বর্তমান পৃথিবীটা হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির পৃথিবী। কথাটা যে সতি্য সেটা খুব সহজেই প্রমাণ পাওয়া যায়। আজ থেকে এক যুগ আগে কারো কোনো তথে্যর প্রয়োজন হলে মানুষেরা বই খুলে দেখতো- এখন আর কেউ সেটা করে না। যখন কারো তথে্যর প্রয়োজন হয় সে কম্পিউটারের সামনে বসে, কী-বোর্ডে দুই একটি টোকা দেয়, মাউসে কয়েকবার ক্লীক করে। সাথে সাথে তথ্য চোখের পলকে তার কাছে চলে আসে-তথ্যটি পাশের রাস্তা থেকে এসেছে নাকি পৃথিবীর অন্য পাশ থকে এসেছে সেটা আজকাল কেউ জানতেও চায় না। জানার প্রয়োজনও নেই। কারণ পুরো পৃথিবীটা এখন সবার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এই আসাধারণ ব্যাপারটি ঘটা সম্ভব হয়েছে তথ্য প্রযুক্তির একটা বিপ−বের কারণে। তথ্য প্রযুক্তি নামে সারা পৃথিবীতে যে বিপ−বটি ঘটেছে তার পিছনে যে যন্ত্রটি কাজ করছে তার নাম ডিজিটাল কম্পিউটারকম্পিউটারের ভেতরকার ইলেকটধনিক প্রক্ষিয়া করার জনে্য সম্ভাব্য সব সিগনাল ব্যবাহর না করে সুনির্দিষ্ট কিছু সিগনাল বা ডিজিটাল সিগনাল ব্যবহার করা হয় বলে এর নাম ডিজিটাল কম্পিউটার। আমাদের বর্তমান পৃথিবী এমন একটা র্পূযায়ে পৌঁছেছে যে, এখন খুব কম লোকই খুঁজে পাওয়া যাবে যার জীবনকে কোনো না কোনো ভাবে কম্পিউটার  স্র্পূশ করেনি। হিসেব নিকেশ করতে কম্পিউটারের দরকার হয়, ব্যবসাপাতিতে কম্পিউটার দরকার হয়, এমন কি শিল্প সাহিত্য বা বিনোদন করতেও আজকাল কম্পিউটারের দরকার হয়। ১৯৭৭ সালে ভয়েজার ১ আর ২ নামে দুটো মহাকাশযান সৌর জগতে তাদের যাত্রা শুরু করেছিল। সৌরজগৎ পাড়ি দেবার সময় মহাকাশযান দুটো গ্রহগুলোর পাশে দিয়ে গিয়েছে এবং যাবার সময় সেই গ্রহগুলো সম্র্পূকে নানা তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। ছোট একটি যন্ত্র হয়েও পৃথিবীর গবেষকদের কাছে সবচেয়ে বেশি তথ্য পাঠানোর কৃতিত্বটুকু ভয়েজার মহাকাশযানগুলোকে দেওয়া হয়। এই চমকপ্রদ কৃতিত্বটুকুর পিছনে ছিল একটা কম্পিউটার, যেটি ভয়েজার মহাকাশজানকে সৌরজগতে ভেতর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে, তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং নিখুঁতভাবে সেই তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। কেউ যেন মনে না করে যে, ভয়েজার মহাকাশযানের কম্পিউটার বুঝি ছিল অসাধারণ কোনো কম্পিউটার। বস্তুত সেগুলো ছিলো খুবই সাধারণ কম্পিউটার। সতি্য কথা বলতে কি আমরা এখন যে কম্পিউটার ব্যবহার করি তার তুলনায় ১৯৭৭ সালের সেই কম্পিউটার ছিল প্রা য় একটা খেলনার মতো। তারপরেও সেটি অসাধ্য সাধন করেছিল, কারণ বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে বসে যখন যেভাবে প্রয়োজন তখন সেভাবে প্রোগ্রাম করে কম্পিউটারটিতে পাঠাতেন। কম্পিউটারটিও তাই যখন যেরকম প্রয়োজন সেভাবে তার দায়িত্ব পালন করত। অন্য যে-কোনো যন্ত্র থেকে সে কারণে কম্পিউটার আলাদা এবং এটাই কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় শক্তি। একটা কম্পিউটারকে কোন কাজে ব্যবহার করা হবে সেটা নির্ভর করে মানুষের ওপরে। একজন মানুষ যত সৃজনশীল হবে কম্পিউটারের কাজকর্ম হবে তত চমকপ্রদ।
মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য ১৬১
কম্পিউটার ব্যবহার করে যে অসংখ্য কাজ করা যায় তার একটি হচ্ছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, যেখানে কম্পিউটারকে একসাথে জুড়ে দেওয়া হয়। কেউ যেন মনে না করে, এতে শুধু একটা ঘরের কয়েটা কম্পিউটার কিংবা একটা প্রতিষ্ঠানের কয়েকটা কম্পিউটার জুড়ে দেয়া হয়। আসলে সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারকে একসাথে জুড়ে দিয়ে বিশাল একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। সেটা ঠিকভাবে করার জনে্য তথ্য বিনিময় বা তথ্য যোগাযোগের নতুন নতুন প্রযুক্তি গড়ে উঠেছে। তার একটি হচ্ছে ফাইবার অপটিক্স, যেখানে চুলের মতো সু২ একটা কাচের তন্তুর ভেতর দিয়ে তথ্য পাঠানো যায়। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে তথ্যটা বৈদক্ষতিক সংকেত হিসেবে যায় না, সেটা যায় আলো হিসেবে। সেই আলো কিন্তু দৃশ্যমান আলো নয়, সেটি অবলাল আলো, আমরা তাই চোখে সেটা দেখতেও পাই না। ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির সাথে ব্যবহার করার জনে্য রকমারি প্রযুক্তি গড়ে উঠেছে এবং সব কিছু মিলিয়ে এখন রয়েছে পৃথিবী জোড়া বিশাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার একসাথে জুড়ে দেওয়ার পর সেটা দিয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভব। কিছু করা হয়েছে, কিছু করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী করা যাবে সেটা নিয়ে পৃথিবীর সৃজনশীল মানুষেরা সবসময় চিন্তা করছে। পৃথিবীজোড়া বিশাল নেটওয়ার্কের একটা ব্যবহারের কথা আমরা মোটামুটি সবাই শুনেছি- সেটি হচ্ছে ইন্টানেট। সাধারণ তথে্যর জনে্য এখন ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনের সব খবরাখবর ইন্টারনেট থেকে নেয়। শুধু সে বাস টেধন বা পে−নের সময়সচি ইন্টারনেটে পাওয়া যায় তা নয়, সেগুলোর টিকেটও ইন্টানেটে কেনা যায়। পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ এখন সতি্যকারের খবরের কাগজ না পড়ে ইন্টারনেটে খবর পড়ে। গবেষণার জার্নাল এখন ইন্টানেটে প্রকাশ করা হয়। কেনাকাটার সবচেয়ে বড়পদ্ধতি এখন ইন্টারনেট। জিনিষপত্র নিলামে বিক্ষি করতে হলে এখন ইন্টারনেটের চাইতে ভালো কোনো উপায় নেই। রেডিও টেলিভিশন ইন্টারনেটে চলে এসেছে, বন্ধুত্ব বা নানারকম সামাজিক কর্মকা- এখন ইন্টারনেট ঘিরে গড়ে উঠেছে। বিজ্ঞাপন বা নির্বাচনি প্রচারণার জনে্য এখন ইন্টানেটের চাইতে ভালো কোনো উপায় নেই। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায়- সরল কিংবা জটিল, সহজ কিংবা কঠিন, গুরুত্বর্পূণ কিংবা তুচ্ছ সব কাজই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে করা হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মোটামুটি নিন্ডিতভাবে বলা যায়, যারা ইন্টানেট থেকে বিচ্ছিন্ন, তারা জোর কদমে ছুটে বলা পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না, দেখতে দেখতে তারা পিছিয়ে পড়বে। পৃথিবী জোড়া লক্ষ লক্ষ কম্পিউটাII নਠưরƟওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে শুধু যে ইন্টারনেটে তথ্য বিনিময় গড়ে উঠেছে তা নয়, বিজ্ঞানীর এবং গণিত বিদরা সেটাকে গবেষণার কাজেও ব্যবহার করেন। একটা ছোট কম্পিউটার ছোট একটা কাজ করতে পারে কিন্তু লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারকে যদি একসাথে করা হয তাহলে তারা বিশাল কাজ করে ফেলতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাইম সংখ্যা এভাবে খুঁজে বের করা হয়েছে। কম্পিউটার যখন ব্যবহার করা হয় না তখন অলস হয়ে বসে না থেকে বিজ্ঞানী কিংবা গণিতবিদদের বড় বড় সমস্যা সমাধানের কাজে লেগে যেতে পারে। এটি হচ্ছে মাত্র একটি উদাহরণ- আরো অনেক উদাহরণ আছে এবং সবচেয়ে বড় কথা ভবিষ্যতে আরো সুন্দর আরো চমকপ্রদ উদাহরণ আসবে সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
কম্পিউটার কথাটি বলা হলেই আমাদের চোখের সামনে কম্পিউটারের যে ছবিটি ভেসে ওঠে তা হলো- টেলিভিশনের মতো মনিটর, কী বোর্ড, মাউস এবং চৌকোনো বাক্সের মতো সি.পি.ইউ। কিন্তু সেটাই কম্পিউটারের একমাত্র রূপ নয়। আজ কাল ব্যাটারি চালিত ল্যাপটপ চলে এসেছে, সেটা ব্যাগে নিয়ে চলাফেরা করা যায়। আবার বিশাল আকারের সুপার কম্পিউটার রয়েছে যেটাকে শীতল রাখার জনেই রীতিমতো দক্ষযজ্ঞের আয়োজন করতে হয়। যেরকম বড় কম্পিউটার রয়েছে ঠিক সেরকম ছোট
১৬২ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য
কম্পিউটারও রয়েছে যেগুলো মোবাইল টেলিফোন, ক্যামেরা, ফ্রীজ, ওভেন কিংবা লিফটের মতো দৈনিন্দিন ব্যবহারি জিনিষের মাঝে বসানো আছে। আমরা আলাদাভাবে কম্পিউটারকে দেখি না, কিন্তু সেটা আমাদের চোখের আড়ালে অসংখ্যা যন্ত্রপাতিকে সচল করে রাখছে। একসময় টেলিফোন ছিল একটা বুদ্ধিহীন কথা বলা এবং শোনার যন্ত্র। এখন আর তা নয়- মোবাইল টেলিফোন রীতিমতো বুদ্ধিমান যন্ত্র। এমন অনেক মোবাইল টেলিফোন আছে সেটা একই সাথে টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, ক্যামেরা, টেপ রেকর্ডার, ক্যালকুলেটর, জিপিএস এবং ছোটখাটো একটা কম্পিউটার। আমরা এটা হাতে নিয়ে যেখানে খুশি যেতে পারি, যে-কোনো রকম তথ্য সংগ্রহ করতে পারি, তথ্য সংরক্ষণ করতে পারি এবং তথ্য বিনিময় করতে পারি। কিছুদিন আগেও সেটা কল্পবিজ্ঞানের মতো ছিল, এখন পুরোপুরি বাস্তব।
যারা ইতিহাস পড়েছে তারা জানে, আজ থেকে প্রায় দুইশ বৎসর আগে পৃথিবীতে শিল্পবিপ−ব হয়েছিল। যারা সেই শিল্পবিপ−বে অংশ নিয়েছিল তারা পৃথিবীটাকে শাসন করেছ- অনেক সময় শোষণ করেছে। এ মুহর্তে শিল্পবিপ−বের মতো গুরুত্বর্পূণ একটা বিপ−ব হচ্ছে যেটাকে আমরা বলছি তথ্য প্রযুক্তির বিপ−ব। বলার অপেক্ষা রাখে না, যারা এই তথ্য প্রযুক্তির বিপ−বে অংশ নেবে তারা পরবর্তী পৃথিবীকে শাসন করবে।
আমরা শিল্পবিপ−বে অংশ নিতে পারিনি বলে বাইরের দেশ আমাদের শাসন-শোষণ করছে। আমরা আবার সেটা হতে দিতে পারি না। এই নতুন তথ্য প্রযুক্তির বিপ−বে আমাদের অংশ নিতেই হবে। সেই দায়িত্বটা পালন করতে হবে নতুন প্রজন্মকে, যারা নতুন বাংলাদেশের নেত…ত্ব দেবে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে এবং প্রযুক্তিতে। তারা ঠিকভাবে লেখাপড়া করবে, অন্য সব বিষয়ের সাথে সাথে গণিত এবং ইংরেজীতেও সমান দক্ষ হয়ে উঠবে, কম্পিউটারের সাথে পরিচিত হবে। যখন কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ পাবে তখন সেটাকে বিনোদনের একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে শেখার একটা মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহার করবে, নিজেদের সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যত বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদ হিসেবে গড়ে উঠে আমাদের প্রিয় মাত…ভমিকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে তুলতে সাহায্য করবে।
শব্দার্থ ও

টীকা
ডিজিটাল (উরমরঃধষ) ঃ- কম্পিউটারে ইলকটিধনিক কাজকর্ম করার জনে্য যে বৈদক্ষতিক সংকেত ব্যবহার করা হয় তার নির্দিষ্ট মান রয়েছে। সুনির্দিষ্ট এই মানের একটিকে ঙ অন্যদিকে। অন্যদিকে ও বিবেচনা করে বাইনারি সংখ্যা হিসেবে কম্পিউটারের ভেতরে সকল হিসেব-নিকেশ করা হয়। সম্ভাব্য সব মান ব্যবহার না করে সুনির্দিষ্ট দুটমিান দুটি অংক (উরমরঃ) এর জনে্য ব্যবহার করার প্রক্ষিয়াটিকে সাধারণভাবে ডিজিটাল বলা হয়। প্রোগ্রাম- : কম্পিউটারকে একটি নির্দেশ দেওয়া হলে সেটি সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে। এরকম অসংখ্য নির্দেশকে পাশাপাশি সাজিয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখা হয় এবং কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখে কম্পিউটার দিয়ে অনেক জটিল কাজ করানো সম্ভব হয়।
অবলাল- : আলো একটি তরঙ্গ। এই তরঙ্গদৈঘ র্̈ একটি নির্দিষ্ট মান থেকে কম হলে আমরা দেখতে পাই না। আবার তরঙ্গদৈঘ র্̈ যদি আরেকটি নির্দিষ্ট মান থেে বড় হয় তবে সেটাও আমরা দেখতে পাই না। দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈঘ্য থেকে বড় হওয়ার কারণে যে আলোকে আমরা দেখতে পাই না সেটাকে অবলাল বলে।
মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য ১৬ক্ত
জিপিএস- : (এচঝ) এষড়নধষ চড়ংরঃরড়হরহম ঝুংঃবস দিয়ে পৃথিবীর যে কোনো জায়গার অবস্থান সুনির্দিষ্টবাবে বের করা যায়। মহাকাশে অনেকগুলো কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে। এই উপগ্রহ থেকে পাঠানো সংকেত ব্যবহার করে জিপিএসের মাধ্যমে কোনো কিছুর অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে বের করা হয়।

   
   

Certificate Code

সবশেষ ৫টি রিভিউ

top
© eShikhon.com 2015-2020. All Right Reserved